মোট উপযোগিতা ও প্রান্তিক উপযোগিতার মধ্যে সম্পর্ক :-
একজন ভোক্তা বা ক্রেতা কোন দ্রব্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোগ করে যে উপযোগিতা পায় তাকে মোট উপযোগিতা বলে অর্থাৎ মোট উপযোগিতা হল দ্রব্যটির বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগিতার যোগফল।
কোন দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগ করলে যে পরিমাণ অতিরিক্ত উপযোগিতা পাওয়া যায় তাকে বলে প্রান্তিক উপযোগিতা। সুতরাং প্রান্তিক উপযোগিতা হলো অতিরিক্ত এক একক ভোগের অতিরিক্ত উপযোগিতার পরিমাণ।
মোট উপযোগিতা এবং প্রান্তিক উপযোগিতার মধ্যে সম্পর্ক একটি তালিকার মাধ্যমে দেখানো হল :-
![]() |
| মোট উপযোগিতা ও প্রান্তিক উপযোগিতা |
তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে ক্রেতা এক একক আপেল থেকে ৫ টাকার মোট উপযোগিতা পাচ্ছে দুই একক আপেল থেকে ৯ টাকার মত উপযোগিতা পাচ্ছে এবং তিন একক আপেল থেকে ১২ টাকার মোট উপযোগিতা পাচ্ছে।এইভাবে দেখা যাচ্ছে ক্রেতা ৬ একক আপেল থেকে ১৩ টাকার মোট উপযোগিতা পাচ্ছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে ক্রেতা দ্রব্যটির ভোগের পরিমাণ যত বাড়াচ্ছে মোট উপযোগিতা প্রথমের দিকে ততই বাড়ছে, একটি সর্বোচ্চ স্তরে আসার পর মোট উপযোগিতা কমছে।
উপরের তালিকা থেকে আরও দেখা যাচ্ছে যে,ক্রেতা এক একক আপেল থেকে ৫ টাকার মোট উপযোগিতা পাচ্ছে।সুতরাং এক একক আপেল থেকে ক্রেতা ৫ টাকার প্রান্তিক উপযোগিতা পাচ্ছে কারণ এর আগে ক্রেতার আপেল ভোগ ছিল না।আবার দুই একক আপেল থেকে ক্রেতা ৯ টাকার মোট উপযোগিতা পাচ্ছে সুতরাং দ্বিতীয় একক থেকে ক্রেতা ৪ টাকার বেশি উপযোগিতা পাচ্ছে।এই ৪ টাকাই হল দ্বিতীয় এককের প্রান্তিক উপযোগিতা।এইভাবেই তৃতীয় এককের প্রান্তিক উপযোগিতা ৩ টাকা চতুর্থ এককের প্রান্তিক উপযোগিতা ২ টাকা।পঞ্চম এককের প্রান্তিক উপযোগিতা শূন্য এবং ষষ্ঠ এককের প্রান্তিক উপযোগিতা ঋণাত্মক,-1 টাকা ।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে মোট উপযোগিতা যখন বাড়ছে প্রান্তিক উপযোগিতা তখন ধনাত্মক , মোট উপযোগিতা যখন সর্বাধিক প্রান্তিক উপযোগিতা তখন শূন্য এবং মোট উপযোগিতা যখন কমছে প্রান্তিক উপযোগিতা তখন ঋণাত্মক।

