ভোগকারীর উদ্বৃত্ত ও উৎপাদকের উদ্বৃত্ত (Consumers surplus and Producer surplus)
ভোগকারীর উদ্বৃত্ত -
ফরাসি অর্থনীতিবিদ Dupit ভোগকারীর উদ্বৃত্ত শব্দটি উদ্ভাবন করেন।অধ্যাপক মার্শাল ভোগকারীর উদ্বৃত্ত ধারণাটির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
অধ্যাপক মার্শালের মতে কোন ব্যক্তি কোন দ্রব্যের জন্য যে দাম দিতে রাজি থাকে এবং যে দাম ক্রেতা প্রকৃতপক্ষে দেয় - এই দুই এর পার্থক্য হল ভোগকারীর উদ্বৃত্ত।
কোন ব্যক্তি কোন দ্রব্যের জন্য যে দাম দিতে রাজি থাকে তাকে ব্যক্তিগত চাহিদা দাম বলা হয় এবং দ্রব্যটির জন্য ক্রেতা প্রক্ষেপক্ষে যে দাম দেয় তাকে বলা হয় প্রকৃতদাম বা বাজার দাম।
সুতরাং ভোগকারীর উদ্বৃত্ত = ব্যক্তিগত চাহিদা দাম - বাজার দাম।
ধরা যাক কোন ক্রেতা কোন একটা দ্রব্যের জন্য ২০০০ টাকা দাম দিতে রাজি আছে। সুতরাং এখানে দ্রব্যটির ব্যক্তিগত চাহিদা দাম হল ২০০০ টাকা। কিন্তু দ্রব্যটির প্রকৃত দাম হল ১৮০০ টাকা। সুতরাং এখানে দ্রব্যটির জন্য ক্রেতার ভোগ উদ্বৃত্ত হল (2000 - 1800) = 200 টাকা।
![]() |
| ভোগকারীর উদ্বৃত্ত |
চিত্রে অনুভূমিক অক্ষের দ্রব্যের পরিমাণ এবং উল্লম্ব অক্ষের দ্রব্যের দাম পরিমাপ করা হচ্ছে। চিত্রে DD1 হল দ্রব্যের চাহিদা রেখা। ক্রেতা যদি OM পরিমাণ দ্রব্য কেনে তাহলে ক্রেতা এর জন্য মোট যে দাম দিতে রাজি আছে তার পরিমাণ হল ODAM ক্ষেত্রফল।
কিন্তু OM পরিমাণ দ্রব্যের জন্য প্রতি এককে বাজার দাম OP। সুতরাং OM পরিমাণ দ্রব্যের জন্য ক্রেতাকে মোট দাম দিতে হয় (OP x OM) = OPAM ক্ষেত্রে ক্ষেত্রফলের সমান।
সুতরাং চিত্রে ক্রেতার ভোগ উদ্বৃত্ত হল (ODAM - OPAM) = DPA ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল।
উৎপাদকের উদ্বৃত্ত:-
উৎপাদক বা বিক্রেতা কোনো দ্রব্যের যোগান বা বিক্রির জন্য যে সর্বনিম্ন দামে যোগান দিতে রাজি থাকে এবং যে দাম বিক্রেতা প্রকৃতপক্ষে পেয়ে থাকে এই দুই এর পার্থক্যকে বলে উৎপাদকের উদ্বৃত্ত।
যে সর্বনিম্ন দামে উৎপাদক দ্রব্যটির নির্দিষ্ট একক যোগান দিতে রাজি থাকে সেটি ওই দ্রব্যটির নির্দিষ্ট একক উৎপাদনের প্রান্তিক ব্যয়ের সমান।
![]() |
| উৎপাদকের উদ্বৃত্ত |
চিত্রে অনুভূমিক অক্ষে দ্রব্যের পরিমাণ এবং উল্লম্ব অক্ষের দাম পরিমাপ করা হচ্ছে।চিত্রে DD1 হল দ্রব্যটির চাহিদা রেখা এবং SS1 হল দ্রব্যটির যোগান রেখা। এই দুই রেখা পরস্পরকে E বিন্দুতে ছেদ করেছে ।এই E বিন্দুকে বলা হয় ভারসাম্যের বিন্দু। এখানে দ্রব্যটির ভারসাম্য দাম বা বাজার দাম হল OP এবং OM হল দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের পরিমাণ।
বিক্রেতা যদি OM পরিমাণ দ্রব্য যোগান দেয় তাহলে বিক্রেতা সর্বনিম্ন যে দাম পেতে চায় তার পরিমাণ হল OSEM এলাকার ক্ষেত্রফল।
OM পরিমাণ দ্রব্যের জন্য বিক্রেতা প্রতি এককে যে দাম পায় অর্থাৎ বাজার দাম হল OP। সুতরাং OM পরিমান বিক্রির জন্য বিক্রেতা যে মোট বিক্রয়লব্ধ আয় পায় তার পরিমাণ হল বাজার দাম (OP) X বিক্রির পরিমাণ (OM) = OPEM ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল।
সুতরাং উৎপাদকের উদ্বৃত্তের পরিমাণ হল OPEM - OSEM) = PSE ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল।


