ভারতে দারিদ্র্যতা (Poverty in India) বেঁচে থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে কিছু পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রী ভোগ করতে হবে। যে সমস্ত দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করে কোন একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক 2250 ক্যালোরি পেতে পারে সেই পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রীকে দারিদ্র্যের নিম্নতম মান হিসেবে ধরা হয়। বাজার থেকে এই সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী কিনতে যা খরচ লাগে, টাকার অংকে সেটাই হলো নিম্নতম ভোগ ব্যয় এবং টাকার অঙ্কে এটাই হল দারিদ্র্য সীমার সংজ্ঞা। যে সমস্ত ব্যক্তি এই পরিমাণ ভোগ ব্যয় করতে পারে না তাদেরই আমরা বলি দরিদ্র। ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের মতে 1960 থেকে 61 সালের মূল্যস্তর অনুযায়ী যেসব ব্যক্তির মাসিক ভোগ ব্যয় কুড়ি টাকার কম তারাই দারিদ্র্যসীমার নিচে আর যেসব ব্যক্তির মাসিক ভোগব্যয় কুড়ি টাকার অথবা তারও বেশি তারায দারিদ্র্যসীমার উপরে।এই হিসাবটি নিম্নতম মান অর্থাৎ 2250 ক্যালোরি সংগ্রহ করার জন্য যে ভোগ্যদ্রব্য ভোগ করতে হবে সেই হিসাব ধরেই করা হয়েছে। ক্যালরির মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিমাপকে জৈবিক দৃষ্টিভঙ্গি বলা হয়। অনেকেই এই দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেন না। তাদের বক্তব্য বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেদের ...
ভারতের টাকার বাজারের সাম্প্রতিক সংস্কার সমূহ
(Recent reforms in Indian money market)
ভারতের টাকার বাজার অনেকাংশেই অনুন্নত এবং অসংগঠিত। এই অনুন্নত এবং অসংগঠিত টাকার বাজারকে উন্নত এবংসংগঠিত করার লক্ষ্যে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতের টাকার বাজারের সাম্প্রতিক বছর গুলিতে গৃহীত সংস্কার গুলিকে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল -
১) বাজারের দ্বারা নির্ধারিত সুদের হারের প্রবর্তন:-
১৯৯১ সালের নরসিংহম কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করে সুদের হারের উপর নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়।। ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাজার সংশ্লিষ্ট সুদের হার গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় ফলে ভারতে ক্রমে প্রশাসনিক সুদের হারের ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে বাজারের দ্বারা নির্ধারিত অর্থাৎ চাহিদা এবং যোগানের দ্বারা নির্ধারিত সুদের হারের প্রবর্তন হয়েছে।
২) সংগঠিত এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের সংযুক্তি :-
ভারতীয় টাকার বাজারে একটি বিশাল অংশ দখল করে রয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রএবং এই অংশে রয়েছে দেশীয় ব্যাংকার ও গ্রামীণ মহাজন। বর্তমানে এই অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলি RBI এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং তাদের পুনর্বাট্টার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামাঞ্চলে শাখা খুলছে। ফলে ভারতের টাকার বাজারের সংগঠিত অংশটি অনেক বেশি প্রসারিত এবং সুসংগঠিত হচ্ছে এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কার্যাবলী RBI দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
৩) নতুন নতুন অর্থ পত্রের প্রবর্তন:-
সাম্প্রতিককালে ভারতের টাকার বাজারে নানা ধরনের নতুন নতুন অর্থ পত্রের প্রবর্তন করা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ৯১ দিনের ট্রেজারি বিল, ১৮২ দিনে ট্রেজারি বিল ,৩৬৪ দিনের ট্রেজারি বিল , আমানতের শংসাপত্র ,বাণিজ্যিক নথিপত্র প্রভৃতি। এই নতুন নতুন অর্থ পত্রের প্রবর্তনের ফলে ভারতের টাকার বাজারে এখন বৈচিত্র্য এসেছে এবং লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
৪) বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের প্রবেশ:-
নরসিংহম কমিটির সুপারিশ অনুসারে ভারতের টাকার বাজারে ব্যক্তিগত মালিকানার ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় । ফলে ভারতের টাকার বাজার আরো প্রতিযোগিতামূলক এবং দক্ষ হয়ে উঠেছে।
৫) মিউচুয়াল ফান্ড সমূহের প্রবেশ:-
ভারতীয় টাকার বাজারকে আরো বেশি প্রসারিত করার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে কিছু মিউচুয়াল ফান্ড এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলির কিছু অধীনস্থ সংস্থাকে টাকার বাজারের অর্থপত্রের কারবার চালাতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
৬) DFHI এর প্রতিষ্ঠা:-
১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসের ডি.এফ.এইচ.আই স্থাপন করা হয়। DFHI টাকার বাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। DFHI বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিল এবং অন্যান্য স্বল্পকালীন ঋণপত্র কেনে এবং ওই সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত তহবিল স্বল্পকালের জন্য বিনিয়োগ করে। ব্যাংকগুলিও তহবিল পাবার জন্য তাদের স্বল্পকালীন লগ্নীপত্র DFHI এর কাছে বিক্রি করতে পারে। এর ফলে ভারতের বাট্টা ঘরের প্রয়োজন মিটানো সম্ভব হয়।
৭) STCI স্থাপন :-
১৯৯৪ সালের মে মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া STCI স্থাপন করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল সরকারি লগ্নিপত্রের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক বাজারের সুযোগ প্রদান করা।
৮) উপযুক্ত আর্থিক নীতি গ্রহণ:-
সাম্প্রতিক বছর গুলিতে নরসিংহম কমিটির সুপারিশ অনুসারে বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (SLR) কমিয়ে 25 শতাংশ করা হয়েছে এবং নগদ জমা অনুপাত (CRR) ও কমানো হয়েছে। RBI এর এই সমস্ত উপযুক্ত আর্থিক নীতি গ্রহণের ফলে টাকার বাজারের সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টাকার বাজার কে আগের তুলনায় আরো বেশি সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
৯) Credit rating agency স্থাপন :-
বিনিয়োগকারীদের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি ঋণ যোগ্যতা পরিমাপক সংস্থা বা ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি স্থাপন করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল CRISIL, IICRA, ONICRA, CARE প্রভৃতি ।
১০) গ্রাহকদের অভিযোগ সংক্রান্ত স্কিম প্রবর্তন:-
১৯৯৫ সালের ১৪ই জুন RBI অম্বুডসম্যান স্কিম (Ombudsman Scheme) প্রবর্তন করে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকের গ্রাহকদের অভিযোগ ইত্যাদির প্রতিকার করা।
সাম্প্রতিককালে উপরিক্ত সংস্কারগুলির ফলে ভারতের টাকার বাজার তার কিছু সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে আরও বেশি সংগঠিত এবং উন্নত হতে পেরেছে। তবে এখনও ভারতে বিপুল আয়তনের অসংগঠিত ক্ষেত্র রয়েছে যারা রিজার্ভ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ভারতের টাকার বাজারকে আরো বেশি উন্নত করে তুলতে হলে এই অসংগঠিত ক্ষেত্রটিকে টাকার বাজারের সংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।